যেসব মেয়েলি সমস্যা্য় ডাক্তার দেখানো উচিৎ

0 229

গাইনি সমস্যা হলে সেটা নিয়ে লুকোচুরি না করে চিকিৎসককে বলা এবং গাইনি সমস্যা সম্পর্কে জেনে রাখা প্রত্যেকটি নারীর জন্যেই উপকারী এবং দরকারী। কিন্তু এ নিয়ে ট্যাবু আর লজ্জার কমতি নেই। তাই অসুখ এবং প্রশ্ন নিজের ভেতরে পুষে রেখে নিজেদের অবস্থাকে কঠিন করে তোলেন অনেক নারী। চলুন, আজ সরাসরি কথা বলা যাক হরহামেশাই হয়ে থাকে এমন কিছু গাইনি সমস্যা নিয়ে।

সমস্যাটি ঠিক কী?
অধিকাংশ নারীই জানেন না যে, তার সাথে যে সমস্যাটি হচ্ছে সেটি আসলে কী। একটু মিলিয়ে নিন দেখি। নিচের সমস্যাগুলোর কোনোটা আপনার সাথে ঘটছে নাতো?

১। সাদাস্রাবে অস্বাভাবিকতা

যোনিপথ দিয়ে সাদাশ্রাব নির্গমন হওয়া নারীদের জন্য স্বাভাবিক। যোনিপথকে পরিষ্কার রাখতেই এই প্রক্রিয়াটি ঘটে থাকে। তবে ছত্রাক সংক্রমণের কারণে এই সাদাস্রাবের পরিমাণ, রঙ, গন্ধ পরিবর্তিত হতে পারে। এমনটি হলে চিকিৎসকের কাছে চলে যান। কারণ, অনেকসময় এই অস্বাভাবিকতার কারণে হতে পারে সার্ভিকাল ক্যান্সারও।

২। অতিরিক্ত মূত্রত্যাগ

পানি বেশি খাওয়া বা স্বাভাবিক কোন কারণে অতিরিক্ত মূত্রত্যাগ হতে পারে। তবে, যোনিপথে সংক্রমণ (ইউটিআই) এবং যৌনতার মাধ্যমে পরিবাহিত সংক্রমণও এর কারণ হতে পারে।

৩। বিনা কারণে রক্তপাত বা অতিরিক্ত রক্তপাত

পিরিয়ডের সময় রক্তপাত হওয়া স্বাভাবিক। তবে এছাড়াও প্রস্রাবের সাথে রক্তপাত হলে বা রক্তপাত অতিরিক্ত হলে সেটি চিন্তার কারণ। সংক্রমণ, তলপেটে জমা পাথর, সার্ভিকাল ক্যান্সার, মূত্রথলীর ক্যান্সারসহ আরো নানারকম ভয়াবহ কারণ থাকতে পারে এর পেছনে।

৪। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় ব্যথাবোধ করা এবং পরবর্তীতে রক্তপাত

শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় ব্যথার কারণে হতে পারে এন্ড্রোমেট্রিয়োসিস, ভ্যাজিনিসমাস এবং ছত্রাক সংক্রমণের মতো ব্যাপারগুলো। অন্যদিকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর রক্তপাত ঘটলে এর সাথে সার্ভিকাল ক্যান্সার বা সার্ভিকাল পলিপ্সের সম্পর্ক থাকতে পারে।

৫। অসম্ভব ব্যাক পেইন আরো নানা কারণে এই ব্যথা হলেও, এর কারণে হতে পারে এন্ডোমেট্রিয়োসিস, ওভারিয়ান সিস্ট, নানাবিধ প্রদাহ ইত্যাদির মতো ব্যাপারগুলোও। অন্যদিকে মেনোপোজের সময় পার হলেও যদি আপনার রক্তপাত চালু থাকে, সেক্ষেত্রেও ব্যাপারটি গাইনি সমস্যার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

উপরোক্ত যে কোন একটি সমস্যা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

আমার এমন কোন সমস্যা নেই। আমি কি চিকিৎসকের কাছে যাবো?

আপনার যদি এই সমস্যাগুলোর কোনটাই না থেকে থাকে, তবুও ২৫ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি ২-৩ বছর অন্তর অন্তর একবার করে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সার্ভিকাল স্মেয়ার এবং এইচপিভি পরীক্ষা করা উচিত। এগুলোর মাধ্যমে কোন যৌন সম্পর্ক ছাড়াই ক্যান্সারের সেল শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে কোন লক্ষণও প্রকাশ পায় না। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করলে অস্বাভাবিক কোষকে শনাক্ত করা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সহজ হয়ে যায়। এছাড়া, চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসাউন্ড টেস্ট ইত্যাদির মাধ্যমে আপনার ওভারিয়ান ক্যান্সারের ব্যাপারেও আপনাকে সতর্ক করতে পারবেন।

সার্ভিকাল ও ওভারিয়ান ক্যান্সারের চিকিৎসা কী?

সার্ভিকাল ক্যান্সার প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে কেবল সার্জারি করলেই ঠিক হয়ে যায়। তবে পরবর্তী পর্যায়ে কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি- দুটোরই দরকার পড়ে। অন্যদিকে, ওভারিয়ান ক্যান্সার সাধারণত শেষের দিকেই শনাক্ত হয় বেশি। ফলে কেমোথেরাপি ও সার্জারি দুটোই একসাথে করা হয় এর চিকিৎসা হিসাবে।

ইউটেরাইন ফাইব্রয়েডস কী, এর চিকিৎসাই বা কেমন?

জরায়ুর গায়ে জন্ম নেওয়া টিউমরকে ফাইব্রয়েডস বলা হয়। এদের মাধ্যমে ক্যান্সার জন্ম নেয় না। পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ব্যথা, পিঠ ব্যথা এবং ঘন ঘন প্রস্রাব ফাইব্রয়েডসের লক্ষণ। সাধারণত, এটি এমনিতেই বা কিছু ওষুধ সেবন করলেই সেরে যায়। তবে বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকেরা এক্ষেত্রে সার্জারির পরামর্শও দিয়ে থাকেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.